আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

নতুন নেতৃত্বে অপেক্ষায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা আ.লীগ: তৃণমূলের সমালোচনায় লুৎফুর-শাহাব



অনলাইন ডেস্কঃ দীর্ঘ ১৬ বছর পরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন। আগামী ১৩ নভেম্বর (বুধবার) বহু কাঙ্ক্ষিত এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আগ্রহের শেষ নেই।

দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সম্মেলনে শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়েই আগ্রহ তৃণমূলের।  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরাও কাউন্সিলরদের কাছে ছুটছেন।

সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয়দের কাছে ঘুরে ফিরে দুইজনের নাম প্রাধান আলোচনায়। তবে শেষ মূহুর্তে এসব হিসেব-নিকেশ বদলে যেতে পারে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করে আসছেন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. ইকবাল আহমদ চৌধুরী। তৃণমূলের কাছে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে সমাদৃত। শারীরিক অসুস্থতা এবং বয়সের ভারে তিনি আর এ পদের জন্য আগ্রহী নন। উপজেলার নেতাকর্মীরাও এ পদে নতুন কাউকে আসীন করতে চাইছেন।

এ পদের জন্য নেতাকর্মীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান। সমাজসেবক ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তার প্রতি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। কর্মীবান্ধব এবং দলের প্রতি অনুগত হওয়ার কারণে তার গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। সম্ভবত তিনিই গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে আসীন হতে যাচ্ছেন।

এই পদের অপরপ্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদের নাম শোনা গেলেও তৃণমূলের কাছে তিনি ঘেঁষতে পারছেন না। বিগত ১০ বছরে কর্মীদের সাথে তাঁর দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান (লুতি) এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন,  বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান সাংগঠনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্রিয়। তিনি তৃণমূলের কাছে কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।  তিনি সভাপতি নির্বাচিত হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও নতুন নেতৃত্ব আসছে এটা অনেকটা নিশ্চিত। এ পদেও একাধিক প্রার্থী কাউন্সিলরদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগ্য এবং ত্যাগী প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে সাড়া পাচ্ছেন ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন আহমদ। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে সাহাব উদ্দিন নেতাকর্মীদের কাছে সুপরিচিত। দীর্ঘসময় তৃণমূলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত সাহাব উদ্দিন কখনো দলের বিরুদ্ধে কোন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হন নি। এ পদের প্রার্থী হিসেবে তিনি উপজেলার প্রত্যেক কাউন্সিলরের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন।

অপরদিকে এই পদের আরেক প্রার্থী সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন পৌর আওয়ামী লীগের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যকরী কমিটির সদস্য। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রীর গাঁ ঘেষা নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত। দীর্ঘসময় ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীর হয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ ভাগ এবং প্রশাসনের সাথে দহরম মহরমের কারণে তৃণমূলের সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কাউন্সিলরদের কাছে সমর্থন আদায়ের জন্য ছুটে চলেছেন। উপজেলায় কাউন্সিলরদের মতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্ধারিত হলে সৈয়দ মিছবাহ এ পদ থেকে ছিটকে যেতে পারেন।

এ বিভাগের আরোও সংবাদ