আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সম্মেলন নেতৃত্বে আসছে নতুন মুখ

অনলাইন ডেস্কঃ ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের (উত্তর ও দক্ষিণ) সম্মেলনকে ঘিরে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। পদ-পদবী পাওয়ার জন্য নেতারা দলের হাইকমান্ডের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ ও তদবির শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলে চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরু করার পর দুর্নীতিগ্রস্থ ও অস্বচ্ছ নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ‘ক্লিন’ ইমেজের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করবেন বলে জানা যায়। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনে মহানগর নেতৃবৃন্দের বিগত দিনের আমলনামা সংগ্রহ করে বিতর্কিত, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেয়ার গুঞ্জণ শুনা যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, আসন্ন মহানগর সম্মেলনে উত্তর-দক্ষিণে কমিটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং এর ৩ বছর পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা করা হয়। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং দক্ষিণে সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাজি আবুল হাসনাতকে বয়সজনিত কারণে অন্য পদে রেখে সভাপতি পদে ঐক্যবদ্ধ ঢাকা মহানগরীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমকে আনা হতে পারে। এছাড়া সভাপতি পদে ঢাকা মহানগরীর দীর্ঘ দিনের নেতা ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফীর নামও শোনা যাচ্ছে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে। আলোচনায় আবুল বাশারের নামও ঘুরেফিরে আসছে। তাছাড়া দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক পদে শাহে আলম মুরাদের জায়গায় কমিটির সহসভাপতি আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ কামাল, জবির ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাঈদের নামও শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেশোরে।
দলের একজন সিনিয়র নেতা এই প্রতিনিধিকে বলেন, ঢাকা উত্তরের কমিটি নিয়ে সমস্যা আরো প্রকট। উত্তরের সভাপতি ঢাকা-১১ আসনের সাংসদ একেএম রহমতুল্লাহ একজন ব্যবসায়ী। তিনি বার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতিসহ নানাবিধ দায়িত্ব পালন করায় মহানগরে ঠিকমতো সময় দিতে পারছেন না। এবারের কাউন্সিলে তাঁর প্রার্থীতার কথাও শুনা যাচ্ছে না। এছাড়া, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য, ইতঃপূর্বে তিনি কাউন্সিলর ছিলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনীতিতে তাঁর বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ না থাকলেও সংসদ সদস্য ও পারিবারিক ব্যবসায় ব্যস্ত থাকায় দলীয় কর্মকান্ডে সময় দিতে পারছেন না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উদাসীনতার কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামীলীগের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। মোহম্মদপুর এলাকার দীর্ঘদিনের ওয়ার্ড কমিশনার উত্তরের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবার মহানগর উত্তরের সভাপতি প্রার্থী বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন মোহাম্মদপুর এলাকার কাউন্সিলর বর্তমান সংসদ নির্বাচিত হয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠেময়দানে সক্রিয় আছেন। কর্মীবান্ধব নেতা হিসাবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে।

এছাড়া বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমানও সভাপতি প্রার্থী। শেখ বজলুর রহমান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজনীতিতে একজন পরিক্ষিত নেতা ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসাবে সুনাম রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের খানও এবার সভাপতি প্রার্থী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহানগরের উত্তরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য ও বর্তমান কমিটির অর্থ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: ওয়াকিল উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচির নাম এলাকার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। মহানগর উত্তরের বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবার সবদিক থেকে ক্লিন ইমেজ এবং পরীক্ষিত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াকিল উদ্দিনকে মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান। এবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যেভাবে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন নেতাদের দিয়ে দল গোঁছাতে চান, সে ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর উত্তরের সবার আগে উঠে আসে কর্মীবান্ধব নেতা মুক্তিযোদ্ধা ওয়াকিল উদ্দিনের নাম। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় পরিপুষ্ট ও দলের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়া একমাত্র ওয়াকিল উদ্দিনই দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এছাড়া বিশিষ্ট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও বিজিএমইর নেতা এসএম মান্নান কচি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও পরে মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক ছিলেন। তিনিও সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় রয়েছেন। এবারের সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা দলের ত্যাগী, ক্লিন ইমেজ ও পরীক্ষিতদের নেতৃত্ব চান।

এ বিভাগের আরোও সংবাদ