আজ মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ ইং

কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে আহত ১০

অনলাইন ডেস্কঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জের পূর্ব বন্দডাকপাড়া আবাসিক এলাকায় তিনটি কেমিক্যাল গোডাউনে বিস্ফোরণের পর আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয়দের মধ্যে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে অন্তত অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টায় মারুক আহমেদের কেমিক্যাল গোডাউনে বিস্ফোরণ হওয়ার পর আগুন ধরে যায়। আগুনে গোডাউনের প্রায় এক হাজার ফুটের মধ্যে থাকা সবগুলো বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে আরও দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকা প্রকম্পিত হয়। মুহূর্তেই ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায় সমস্ত এলাকা। এমনকি গোডাউনের ছাদ ও ইট উড়ে গিয়ে আশপাশের প্রায় ২০-২৫টি বাড়ির জানালার গ্লাস ভেঙে যায়। গোডাউনের পাশের ভবনের দেয়ালে ফাটল এবং দোকানগুলোর সাটার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিস্ফোরণ হওয়া তিনটি গোডাউনের মালিক মো. মারুফ আহমেদ। স্থানীয়রা আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা নিজেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন নেভাতে সাহায্য না করলে ওই এলাকায় অর্ধশতাধিক বাড়ি ঘর পুড়ে যেত। এক্ষেত্রে অনেক প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল। চুড়িহাট্টার আগুনের পর কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা কেরানীগঞ্জের আতাশুর, কালিন্দী, ডাকপাড়া, চুনকুটিয়াসহ ১২টি আবাসিক এলাকায় এরকম ৫০টি কেমিক্যালের গোডাউন স্থাপন করেছে। প্রশাসনিকভাবে বারবার কেরানীগঞ্জের আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিলেও স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ এখনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত কেরানীগঞ্জের আবাসিক এলাকা থেকে সব কেমিক্যাল সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডিএডি মো. মোস্তফা মোহসীন বলেন, গোডাউনটিতে সোডিয়াম থায়ো, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট মনোহাইড্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড ছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, সোডিয়াম থায়ো থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। এখানে গোডাউন করার কোনো অনুমোদন ছিল না। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ বলেন, কিছুদিন আগে কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এরপর থেকেই আমরা অবৈধ কারাখানার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি।

ইতিমধ্যে প্রায় ২৪টি কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই বিস্ফোরণের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেরানীগঞ্জ সার্কেল কামরুল হাসান সোহেলকে আহ্বায়ক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।